
নিজস্ব সংবাদমাধ্যম
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে-এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে থাকলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘনিয়ে এলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নীরবতা চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত বেতন কাঠামো সময় মতো বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন ও জল্পনা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে।
সরকারের কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিষয়টি নিয়ে একই ধরনের ধোঁয়াশা ছিল, যা বর্তমান সময়েও অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- ১ জুলাই থেকে আদৌ পে-স্কেল কার্যকর হচ্ছে কি না এবং হলে তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এ প্রসঙ্গে বলেন, মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছুই বলেনি।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আমরা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির এই নেতা বলেন, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আগামী ১১ জুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, এই বাজেটে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে।
এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন (বেসিক) কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
