
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে উপজেলা বিএনপির এক পদধারী শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা, ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সরকারি চাকরিজীবীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রশ্নে কলেজজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলম মনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক রাজনৈতিক দলের পদধারী হতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত গত ১৮ মে’র এক আদেশে নূরে আলম মনিকে ইসলামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী অন্যত্র বদলি হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পাঠানো জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের ২৪ সদস্যের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা তালিকায় নূরে আলম মনির অবস্থান ছিল ১৩তম। অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে তাঁকে প্রথম পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সময় প্রকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অবস্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠতার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাহমুদা সুলতানাকে চতুর্থ, তৃতীয় অবস্থানে থাকা মো. মোরাদুজ্জামানকে দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মিনাক্ষী প্রসাদ সাহাকে তৃতীয় স্থানে দেখিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে গত ১২ মে বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসচিব কাজী নূরুল ইসলাম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নূরে আলম মনির প্রকৃত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে মতামত পাঠানোর নির্দেশ দেন।
