
সোহাগ মল্লিক : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা থাকলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি। সেই নির্বাচন নিয়ে কমপক্ষে দুইজন রাজসাক্ষী পাওয়া গেছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়ে সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারি দলের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সাক্ষী।
তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলন করেছে ছাত্ররা, আমরাও ছিলাম। তবে ড. ইউনুস লন্ডনে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। লজ্জা। ট্রফি যদি ওখানেই দিয়ে থাকেন, তাহলে কিসের নির্বাচন? তাহলেতো নির্বাচনের ভাগ্য যোগাযোগ করে পর্দার আড়ালে ঠিক করে জাতিকে ব্লাকমেইলিং করা হয়েছে। যার প্রমাণ বুধবার (দুই নির্বাচনে) দেখা গেছে।
তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনের কার্যদিবসের শেষ পর্যায়ে ওয়াক আউট শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
ওয়াক আউটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ মার্চ থেকে সংসদ শুরু হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ টি অধ্যাদেশ বিধিমোতাবেক উত্থাপিত হয়েছে। উত্থাপনের ৩০ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে এগুলোর নিষ্পত্তি করতে হবে। ওইদিনই সংসদ থেকে সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি করে দেওয়া হয়। এতে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্য ছিল। আলাপ-আলোচনা চলার একপর্যায়ে দেখা গেল শুধু সরকারি দলের সদস্যরা মিলেই হঠাৎ একটি রিপোর্ট চুড়ান্ত করেছে। যেটি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জানতেন না। এখান থেকেই আস্থা নষ্ট হয়েছে। পরে আমাদের আপত্তির মুখে কিছু কিছু জিনিস সংশোধন করা হয়েছে। এটাতো সঠিক সুস্থধারার হলো না। ওখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়।
তিনি বলেন, বিলগুলো আসা শুরু হলে দেখা গেল যে, একটি জায়গায় ক, খ, গ-ইত্যাদি ভাগ করা হয়েছে। আমরা এটা দেখে পরবর্তী কার্যউপদেষ্টা কমিটির মিটিংয়ে বললাম-উত্থাপিত ১৩৩ টি অধ্যাদেশ বিষয়ে আবার কাজ করে সংসদে উপস্থান করবে। তারাতো এটা থেকে কিছু বাদ দেওয়া বা রাখার অধিকার রাখে না। এটা সংসদের প্রপার্টি। কাজেই আমাদের দাবি হচ্ছে-১৩৩ টি অধ্যাদেশই এখানে আলোচনা হতে হবে। এটা নিয়ে অনেকের আলোচনার পর স্পিকারও একমত হন যে, সবকটি অধ্যাদেশ এখানে আসবে এবং এজন্য ছুটির দিনও সংসদ বসার প্রয়োজন পড়বে। তিনি বলেছিলেন-রাত ১২টা হলেও সবকিছু আলোচনা করে আমরা নিষ্পত্তি করবো। এটাই ছিল কথা। কিন্তু আজ (শুক্রবার) দেখলাম-জাতির নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেকটি নাগরিকের একান্ত স্বার্থের সঙ্গে জড়িত সবগুলোকে উপেক্ষা করে এগুলোকে ল্যাপসের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এগুলো উত্থাপনই করবেন না।
এর আগে জুলাই জাদুঘর সংক্রান্ত বিলের বিষয়ে আমরা সরকারি ও বিরোধীদল একমত হয়েছিলাম যে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ ইনটেক রেখেই পাস করা হবে। সেভাবে উত্থাপনও হয়। কিন্তু হঠাৎ সরকারি দলের একজন সদস্য হাত তোলেন। স্পিকার প্রথমে তাকে বসিয়ে দিলেও পরে কথা বলার সুযোগ দেন। এসময় তিনি তিনটি সংশোধনী আনেন। এ বিষয়ে আমাদের নীতিগত আপত্তি আছে। তারচেয়ে বড় আপত্তি হলো-আমরা সংশোধনীর বিষয়ে জানতেই পারিনি।
