
সবুজ আচার্য্য, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
যে মানুষ আলো জ্বালায়, তাকে ঘিরে অন্ধকারের হিংসা জেগে ওঠা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষী—যেখানেই সততা, সুশাসন ও ন্যায়বোধ দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানেই কুচক্রী মহল তাদের সমস্ত অপচেষ্টা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সেই আলো নিভিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সত্যের আলো কখনো নিভে না—তা আরও দীপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামের প্রিয় অভিভাবক, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিএমপি সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ—একটি নাম, যা আজ শুধু একটি পদবির সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি এক দায়িত্ববোধের প্রতীক, এক সততার আলোকবর্তিকা, এক সাহসী নেতৃত্বের জীবন্ত উদাহরণ।
তার কর্মময় সময়ে চট্টগ্রাম দেখেছে এক নতুন পুলিশিং সংস্কৃতি—যেখানে কঠোরতা ছিল অপরাধ দমনে, আর মানবিকতা ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তার দৃঢ়তা যেমন অপরাধীদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে উঠেছিল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
কিন্তু ঠিক এখানেই শুরু হয় অন্ধকারের অস্থিরতা।
চট্টগ্রামের বড় বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক ব্যবসায়ী চক্র এবং সুবিধাবাদী একটি কুচক্রী মহল—যারা তার কঠোর অবস্থানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—তারা আজ একজোট হয়ে তার বিরুদ্ধে চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নানা কৌশলে, নানা প্রলোভনে, এমনকি নারীদের ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো জঘন্য ষড়যন্ত্রের পথও তারা বেছে নিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, এবং তার মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীর অর্জিত গৌরবকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়—এটি একটি নীতির বিরুদ্ধে আঘাত, একটি সুশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, একটি উদাহরণকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা।
হাসিব আজিজ সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি দীর্ঘদিন তার প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থেকেও নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। পারিবারিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক ইতিহাস—সবকিছু মিলিয়ে অতীতে তাকে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তার পিতা, সাবেক আইজিপি আজিজুল হক সাহেবের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও একসময় তার কর্মজীবনে প্রভাব ফেলেছে—কিন্তু তিনি থেমে যাননি, থামেননি দায়িত্ব থেকে, থামেননি সততার পথচলা থেকে।
আজ যখন তার কাজ, তার সাফল্য, তার নেতৃত্ব—সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ষড়যন্ত্রের পুরনো ছায়া।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—সত্যকে কি এভাবে চাপা দেওয়া যায়?
চট্টগ্রাম জানে—এই মানুষটি কে।
চট্টগ্রাম দেখেছে—তার সাহস, তার সততা, তার দায়িত্ববোধ।
চট্টগ্রাম অনুভব করেছে—তার মানবিকতা, তার নিরলস পরিশ্রম, তার ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
যে মানুষ পুলিশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনে, বাহিনীর ভেতরে আত্মমর্যাদা জাগিয়ে তোলে, জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করে—তাকে ছোট করার চেষ্টা আসলে নিজেদেরই ছোট করে দেয়।
আজকের এই সময়, এই প্রেক্ষাপট—একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়
যে আলো সত্যের, তাকে নিভিয়ে দেওয়া যায় না।
যে মানুষ ন্যায়ের পথে অবিচল, তাকে পরাজিত করা যায় না।
হাসিব আজিজ কোনো একক ব্যক্তি নন—তিনি একটি অবস্থান, একটি বিশ্বাস, একটি প্রতিশ্রুতি—যা চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।
ষড়যন্ত্র আসবে, অপচেষ্টা চলবে—
কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষেই দাঁড়ায়।
আর সেই ইতিহাস একদিন লিখবে—
“একজন মানুষ ছিলেন, যিনি অন্ধকারের বিরুদ্ধে একাই আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।”
