
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসা আক্তার নামে ১০ বছরের এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ভোররাতে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাইসা।
নিহত রাইসা আক্তার (১০) বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে।
মৃত্যুর আগে শিশু রাইসার দেয়া জবানবন্দির একটি ভিডিও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের হাতে এসেছে। সেখানে রাইসাকে বলতে শোনা যায়- ‘আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি (শুনি) নাই দেইখা সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।’ অভিযুক্ত বখাটে কিশোর সিফাত সিকদার (১৫) একই গ্রাম দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকার জালাল সিকদারের ছেলে।
রাইসার পরিবারের অভিযোগ, বখাটে লম্পট সিফাত সিকদার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং রাইসাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো ও বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতো। রাইসা তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সিফাত।
নিহত রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিফাত সিকদার দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে রাস্তাঘাটে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন জায়গায় একাকী তাকে কথা শুনতে ডাকতো। রাইসা তার ডাকে সাড়া না দিয়ে বাড়িতে এসে জানিয়ে দেয়। পরে সিফাতের বাবার কাছে নালিশ দেয়া হলে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাইসাকে একা পেয়ে সিফাত তার পথরোধ করে। এসময় তাকে টেনে নির্জনে একটি জঙ্গলে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে রাইসার চিৎকারের মুখে লম্পট সিফাতের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় রাইসার চিৎকারে পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার দিয়ে স্থানীয় লোকজন ডাকেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সন্ধ্যায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় ভর্তির পরে সোমবার ভোররাতের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইসার মৃত্যু হয়।
ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থের সাহায্যে আগুন লাগানো হতে পারে। তার শরীরে থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়েছে। কাপড় পুড়ে চামড়ার সাথে লেগে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পেসেন্টের সারভাইভ করার চান্স খুব কম থাকে। তারপরও ঘটনার সঙ্গেসঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা গেলে হয়তো কিছুটা আশা ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিশু রাইসার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। এবিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
