
ওমানে উটের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা, চট্টগ্রামের একই পরিবারের ৪ জন নিহত
ওমানে আইয়ুব নবীর মাজার জিয়ারত এবং সালালা এলাকায় পরিবার নিয়ে বেড়ানো শেষে বাসায় ফেরার পথে চট্টগ্রামের একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সালালা সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, সাকিব ঘটনার সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ড্রাইভ করছিল এমন সময় গাড়ির সামনে একটি উট চলে আসে। উটের সাথে ধাক্কা লেগে মুহুর্তেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চুরমার হয়ে যায়। এতে সাকিব, তার মা এবং বোনের জামাই মারা যায়। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার স্ত্রীও মারা যায়।
নিহতরা হলেন- ফটিকছড়ি সুন্দরপুর ইউপির আব্বাস সিকদার বাড়ির শফিউল আলমের একমাত্র সন্তান মোহাম্মদ সাকিবুল হাসান সবুজ (২২), তার মা বিলকিস আক্তার, সাকিবের স্ত্রী উম্মে সালমা রিতা (২০), সাকিবের বোনের জামাই মোহাম্মদ দিদারুল আলম।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবের মেয়ে সেখানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার আইডিতে পরিবারের হাসি মুখের ছবি শেয়ার করেন সাকিব।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন-‘পরিবার নিয়ে সালালাহর পথে, নবীয়ে কেরামগণের জিয়ারত ও সালালাহর সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যে, যদিও অফ সিজন’।
কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই রূপ নিল সবার চির বিদায়ে। এমন মৃত্যু হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ। প্রবাসজীবনের এক স্মরণীয় সফর হয়ে গেল তাদের জীবনের শেষ দিন।
সাকিবের আত্মীয় তানজিলা বলেন- সাকিবরা তার পুরো পরিবার নিয়ে আইয়ুব নবীর মাজার এবং সালালা বেড়ানোর পর বাসায় ফিরছিলেন এমন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তারা সকলে প্রাণ হারায়। শুধু তার মেয়েটি বেঁচে আছে তাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাকিবের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই।
স্থানীয় মোহাম্মদ আমান বলেন- সাকিব এবং তার পিতা মো. শফি এলাকায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর নির্মাণ, খাদ্য বিতরণ, গরীব মেয়েদের বিয়েসহ বিভিন্ন খাতে ৮৯ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। যা আমরা উপস্থিত থেকে সম্পাদন করেছি। নিঃস্বার্থ জনদরদী এ পরিবারের এমন মৃত্যুতে আমরা সকলেই ভেঙে পড়েছি। পুরো পরিবারটি নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।
প্রবাসী মোহাম্মদ বাবর বলেন- সাকিব আমার বন্ধু। গতকাল রাতেও তার সাথে কথা হয়েছে। পরে তার পরিবার নিয়ে বেড়ানোর পর সালালা থেকে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটেছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা কোন ভাবেই মানতে পারছিনা। এ সড়কটাতে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তার কোন ঠিক নাই। সড়কটা দিয়ে গাড়ি উঠার সময় বেশিরভাগ সময় অন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা খায়।
