
হিরক খান, মেহেরপুর প্রতিনিধি
আজ ৬ ডিসেম্বর, মেহেরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মেহেরপুর থেকে পালিয়ে যায়। মুক্ত হয় জেলা। বিজয়ের পতাকা উড়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগরসহ পুরো মেহেরপুরে ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির আনন্দ।
এই বর্ণাঢ্য ইতিহাসকে স্মরণ করে আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো মেহেরপুর জেলা মুক্ত দিবস ২০২৫।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সামসুল আলম সোনা।
প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ হিল-সাফি। কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সোনা বলেন, স্বাধীনতার এই অর্জন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,আমরা চাই দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত একটি দেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
র্যালি ও মিলনমেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের অসংখ্য সদস্য অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর ও আবেগঘন।
