
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তিকে আরও কাজে লাগাতে উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ইরান। সোমবার (৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে উন্মোচিত ইরানের পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই নথির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ বাড়ানোর লক্ষ্যে উপকূলের পাঁচটি স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং প্রকল্পগুলো নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর সম্প্রতি ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ইসলামির দাবি, এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে সাশ্রয় হয়েছে ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল অথবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি।
তিনি বলেন, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। তিনি এসব প্রকল্পকে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের দক্ষিণ উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহকারী একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তবে এসব হামলায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম বা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার বিমান হামলা চালায়।
সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত করছে। তবে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেয়া হবে বলেও সতর্ক করে তারা। অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যম অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে, তবে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
