
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি যে ২০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেটি কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।
“কতটুকু কমবে এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো,” বলেন মি. বশিরউদ্দীন।
তিনি আরও বলেন, “শুধু যে আমরা ওভারঅল ট্যারিফ কমানোর চিন্তা করছি তা না, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে- আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস, সেই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়, আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি।”
ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বছরের এপ্রিলে শতাধিক দেশের ওপর বাড়তি বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরে দর কষাকষি করে সেই শুল্কহার হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা গত বছরের পহেলা অগাস্ট কার্যকর হয়েছে।
বাড়তি শুল্ক আরোপের আগে বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করতে বাংলাদেশকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে- মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনা এবং গম, সয়াবিন তেল ও তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ।
“আমাদের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই, ১৯টা প্লেন আমাদের আছে; ইনফ্যাক্ট আমাদের প্লেন আছে ১৪টা, বাকি প্লেনগুলো ফ্লাইঅ্যাবল না। এই ১৪টা প্লেন দিয়ে আমাদের যে নেটওয়ার্ক এবং আমাদের বিমানের যে মাস্টারপ্ল্যান; সেখানে আমরা বলছি, ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের ৪৭টা প্লেনের দরকার,” বলেন শেখ বশিরউদ্দীন।
“আমার ধারণা আরও অনেক বেশি দরকার, বাট উনারা নিদেনপক্ষে ৪৭টা প্লেনের কথা বলেছেন। আমরা যে চুক্তি বোয়িংয়ের সাথে করতে যাচ্ছি, এটা ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টা প্লেন নিয়ে কথা বলছি,” যোগ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
