
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলের ভেতরে চলছে নিবিড় প্রস্তুতি, যা তত্ত্বাবধান করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে তিনি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রার্থীদের নাম
ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,
ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিন,
ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন,
ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস,
ঢাকা-১০ আসনে ব্যারিস্টার নাছির উদ্দিন আহমেদ অসীম,
ঢাকা-১২ আসনে হাবিব উন খান নবী সোহেল,
ঢাকা-১৩ আসনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ববি হাজ্জাজ,
ঢাকা-১৫ আসনে মামুন হাসান,
ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক, এবং
ঢাকা-১৪ আসনে ‘মায়ের ডাক’ আন্দোলনের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি “গ্রিন সিগন্যাল” পেয়েছেন।
সানজিদা ইসলাম তুলিকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তিনি বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হন। তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
এদিকে ঢাকা-১৭ আসনটি শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ-এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই আসন বণ্টনকে বিএনপির কৌশলগত নমনীয়তা এবং জোট রাজনীতির সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“নির্ভার আসন” ও শীর্ষ নেতাদের তালিকা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৬০টি আসনে বিএনপি এখন “নির্ভার” অবস্থায় আছে—অর্থাৎ এসব আসনে প্রার্থী নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব বা অনিশ্চয়তা নেই। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন দলের শীর্ষ ও অভিজ্ঞ নেতারা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন যারা
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১)
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১)
ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২)
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (সিরাজগঞ্জ-২)
সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১)
মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩)
বরকতউল্লাহ বুলু (নোয়াখালী-৩)
মো. শাহজাহান (নোয়াখালী-৪)
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর-৩)
মিয়া নুরুউদ্দিন অপু (শরীয়তপুর-৩)
আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩)
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩)
রশিদুজ্জামান মিল্লাত (জামালপুর-১)
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১)
মাহমুদ হাসান খান (চুয়াডাঙ্গা-২)
ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫)
আমিরুল ইসলাম খান আলীম (সিরাজগঞ্জ-৫)
লুৎফুজ্জামান বাবর (নেত্রকোনা-৪)
ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১)
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (ঝিনাইদহ-৪)
দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, এই আসনগুলোতে প্রার্থীদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীত কর্মতৎপরতা মূল্যায়ন করে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
