
বাংলাদেশের অন্যতম বড় অনলাইন ট্রাভেল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ দেশ থেকে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ও অফিস বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি এবং সাধারণ গ্রাহকরা।
ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, ফ্লাইট এক্সপার্টের মূল কর্তা গতরাতে গোপনে দেশত্যাগ করেছেন। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
শনিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গেলে সেটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা জানাচ্ছেন, টিকিট রিফান্ড, বুকিং কনফার্মেশন কিংবা যেকোনো ধরনের সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির হেল্পলাইন থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ফ্লাইট এক্সপার্টের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের সর্বশেষ পোস্ট ছিল হজ নিয়ে। সেখানে হজ রেজিস্ট্রেশন ও প্যাকেজের মূল্য প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো আপডেট নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক গ্রাহক ও ট্রাভেল ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জয়িতা আফরিন নামে একজন লিখেছেন, ‘ফ্লাইট এক্সপার্টের মতো ট্রাস্টেড কোম্পানি যদি এভাবে পালিয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ আর কাকে বিশ্বাস করবে?’
ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও সালমান তাদের অফিসের অভ্যন্তরীণ একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, সাঈদ, হোসাইন এবং সাকিব তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তারা খুব সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করে গত বৃহস্পতিবারের মিটিং-এ সব দোষ তার (সালমানের) উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল এবং সালমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। আজ সকালে তারা ৩ কোটি টাকা বা তার কম টাকা তুলে নিয়েছেন এবং তা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, কোম্পানিটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
সালমান আরও জানান, তার দিকে আসা হুমকি এবং দোষারোপের কারণে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনি ছুটি নিয়েছেন। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখিত এবং বলেছেন যে এভাবে চলে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।
