বিনা পারিশ্রমিকে ৩ হাজারের বেশি কবর খনন করে যিনি জীবনের অর্ধ শতক পার করে দিয়েছেন, সেই মানবিক মানুষ মনু মিয়া আর নেই।
শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্দি ইউনিয়নের আলগা পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
মনু মিয়া ছিলেন এক অনন্য মানুষ— যার কাজ ছিল মৃত মানুষের শেষ গন্তব্যের জায়গাটি ঠিক করে দেওয়া।
বিনা পারিশ্রমিকে তিনি কেটে দিয়েছেন ৪৯টি বছর, হাতে খুন্তি ও কোদাল— মুখে প্রার্থনা আর মনে দায়বোধ। এই দীর্ঘ সময়ে ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েছেন তিনি, এক টাকাও নেননি কারও কাছ থেকে।
নিজের মানবিক কাজে যেন কোনো বাধা না আসে, তাই নিজের ধানী জমি বিক্রি করে কিনেছিলেন একটি ঘোড়া। সেই ঘোড়ার পিঠে তুলে নিতেন তার হাতিয়ার— কোদাল, খুন্তি আর একচিলতে রশি।
ঘোড়ায় চেপেই যেতেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে, মৃত্যুর ডাক পেলেই প্রস্তুত হতেন শেষ বিদায়ের জায়গাটি ঠিক করতে।
কিন্তু সেই সঙ্গী ঘোড়াটিও মারা যায় ২০২৫ সালের ১৬ মে। এরপর থেকেই শারীরিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন মনু মিয়া।
মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে নিজের যন্ত্রণার চেয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল মৃত্যুর পরবর্তী সম্মান রক্ষা করার কথা। এমন একজন নিঃস্বার্থ ও আত্মদানকারী মানুষ সমাজে বিরল।
তার মৃত্যুতে আলগা পাড়া ও আশপাশের এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,
“মনু ভাই কারও মৃত্যুর খবর পেলেই সবার আগে হাজির হতেন। কখনো মুখে হাসি, কখনো চোখে জল— কিন্তু তার কাজের প্রতি ছিল অবিচল নিষ্ঠা।”

